আপনজন ডেস্ক: কড়া পুলিশি বন্দোবস্ত এবং ‘কোকরোচ জনতা পার্টি’ (সিজিপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-কে আটক করার ফলে শুক্রবার সন্ধ্যায় কনট প্লেসে দলটির প্রস্তাবিত ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’ মিছিলটি তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে। এর আগে সংসদের দিকে সিজিপি-র মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের যে সংঘর্ষ হয়েছিল, এদিনের ঘটনা ছিল তার থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত। অনুমতি ছাড়া ‘সেন্ট্রাল পার্ক’-এর দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা)-র সভাপতি নেহা বোরা সহ একাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। সিজিপি-র ডাকে সাড়া দিয়ে আনুমানিক ২,০০০ মানুষ কনট প্লেস ও তার আশপাশে জড়ো হয়েছিলেন, যাঁদের অনেকের হাতেই ছিল জাতীয় পতাকা। সিজিপি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছে।
সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে মধ্য দিল্লিতে মোতায়েন করা বিশাল পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী (সিএপিএফ) পুরো ভিড় ছত্রভঙ্গ করে দেয়। দীপকে কারোল বাগের যে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন, সেটি এনসিপি (শরদ পওয়ার) মুখপাত্র অনীশ গাওয়ান্ডের। সেখানে পৌঁছে দিল্লি পুলিশের একটি দল তাঁকে নোটিস ধরায়। তাতে বলা হয়, “আইনসম্মত অনুমতি না নিয়ে” তিনি মিছিল করতে পারবেন না এবং দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই পুলিশ এই পদক্ষেপ করছে। নোটিসে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের চলাচলের অসুবিধার কথা উল্লেখ করে জানানো হয় যে, কনট প্লেস কোনো নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল নয়। উপযুক্ত অনুমতি চাওয়া এবং পাওয়া সাপেক্ষে অন্যান্য নির্দিষ্ট স্থান ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিকাল ৪টে ৫০ মিনিটে দীপকে কারোল বাগের বাড়ি থেকে বের হতেই পুলিশ তাঁকে আটক করে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমি একাই আছি। আপনারা আমাকে কেন থামাচ্ছেন?” এরপর তিনি একটি তেরঙ্গা বের করে তা উন্মোচন করার চেষ্টা করলে পুলিশ কর্মীরা তাঁকে জোরপূর্বক পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়ে যান।
পুলিশ সূত্রের খবর, দীপকে-কে দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির জাফরপুর কালান থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে তাঁকে ২৪ ঘণ্টার জন্য প্রতিরোধমূলক হেফাজতে রাখা হতে পারে। গত সোমবার নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে যন্তর মন্তরে প্রবেশের অভিযোগে সিজিপি-র দুই জ্যেষ্ঠ সদস্য আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে গ্রেফতার করে তিহার জেলে পাঠানোর পর বুধবার দিল্লিতে পৌঁছান দীপকে। দীপকে আটক হওয়ার আগেই সেন্ট্রাল পার্কের কাছে ভিড় জমতে শুরু করেছিল। সেখানে তাঁদের কেবল পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর মুখোমুখিই হতে হয়নি, বরং পালিকা বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও তাঁদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ছিল, এই বিক্ষোভের ফলে তাঁদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নতুন দিল্লি জেলা ও সংলগ্ন এলাকায় ২৫,০০০-এরও বেশি পুলিশ ও আধা সামরিক কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল জানায়, “প্রশাসনিক কারণে” শুক্রবার ও শনিবার সাধারণ মানুষের জন্য সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ থাকবে। দিনের বেলা কনট প্লেসের বেশ কয়েকটি দোকান ও রেস্তোরাঁ বন্ধ ছিল। সেন্ট্রাল পার্কের কাছে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) ও দিল্লি পুলিশ মোতায়েন ছিল, অন্যদিকে সিআইএসএফ কর্মীরা ইনার সার্কেলের ভেতর টহল দেন। বিক্ষোভকারীদের আটক করার জন্য তৈরি বাসগুলো সকাল থেকেই সেন্ট্রাল পার্কের পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল।
বিকাল ৫টা নাগাদ মধ্য দিল্লির মান্ডি হাউসে একটি হঠাৎ বিক্ষোভের (ফ্ল্যাশ প্রটেস্ট) ডাক দেন নেহা বোরা। বিকাল ৫টা ২০ মিনিট নাগাদ সমর্থকদের নিয়ে তিনি মিছিল শুরু করলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁকে আটক করা হয়। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ফিরোজশাহ রোডে স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই) এবং অন্যান্য বামপন্থী ছাত্র সংগঠন আরেকটি হঠাৎ বিক্ষোভের ডাক দেয়। এই দলটিতে সাংসদ জন ব্রিটাসও যোগ দেন এবং তাঁরা কনট প্লেস পর্যন্ত মিছিল করেন। এর পরপরই পুলিশ সেন্ট্রাল পার্ক থেকে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে শুরু করে।

All Rights Reserved © Copyright 2026 | Design & Developed by Webguys Direct