বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনে মাইনোরিটি ফাইনান্সের ‘শোক দিবস’ নয়, লজ্জাজনক ‘ভোজ দিবস’ পালন! |
|
১৯৯২ এর ৬ ডিসেম্বর উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ১৫ বছর স্মরণে কলকাতায় নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল সিপিএম এক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রতিবাদে কলকাতা রাজপথ জুড়ে মিছিলের অায়োজন করে। বিভিন্ন মুসলিম সংগঠনের তরফে কলকাতায় প্রতিবাদ মিছিল করতে দেখা যায়।
কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়েছে রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও বিত্ত নিগম। মাইনোরিটি ফাইনান্সের ওয়েবসাইটে ঘটা করে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল ৬ ডিসেম্বর ০৯ প্রধান শিক্ষকদের বিশেষ ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে পার্ক সাকার্সের হজ হাউসে। সঙ্গে দুপুরে ভোজেরও আয়োজনের কথা উল্লেখ করা হয়।
সারা ভারত জুড়ে এই কলঙ্কময় দিনটিকে যখন বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রতিবাদে সচেতন মানুষ শোকদিবস হিসাবে পালন করে আসছেন তখন সেকুলার পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও বিত্ত নিগম মুসলিম প্রধান শিক্ষকদের সে দিক থেকে দূরে রাখার জঘন্য প্রয়াস চালিয়ে গেল। সংখ্যালঘুদের বেদনাময় দিনে খোদ সংখ্যালঘু সরকারি সংস্থা কি করে এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন উঠেছে তাহলে কি বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ক্ষত এভাবে মুসলিমদের মন থেকে মুছে ফেলার এক গভির চক্রান্ত শুরু হয়েছে?
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও বিত্ত নিগমের চেয়ারম্যান পদে আসীন রয়েছেন কট্টর কমিউনিস্ট মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধবাবুর ঘনিষ্ঠ শ্রীযুক্ত মুহাম্মদ সেলিম মহাশয়! পরাজিত সাংসদ-এর জন্যও চিরকাল যেন এই পদটি বরাদ্দ রয়েছে। তাঁর বদান্যতায় বেশ খানিকটা হাল ধরেছিলেন নিগমের এমডি জনাব জাভেদ আখতার। কিস্তু তিনিও যে বাবরি মসজিদের কথা বেমালুম ভুলে গেছেন তা নিগমের এই আয়োজন দ্বারাই স্পষ্ট হয়ে গেছে বলে মুসলিম মহল মনে করছেন। জাভেদ আখতারের এই অবনমনে মুসলিম মহলে চিন্তার ছায়া নেমে এসেছে- তাহলে কি বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা এদেরকে কোন দাগ কাটেনি? ইতিমধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে এই ঘটনার চরম নিন্দা ও ধিক্কার জানানো শুরু হয়ে গিয়েছে।
বাবরি ধ্বংসের প্রতিবাদ জানাতে এ রাজ্যে এবার সক্রিয় হয়েছে পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া।
র্শিয়ালদহ স্টেশন থেকে সকাল ১০টায় পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ার সমর্থকরা বিশাল প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করে। বিভিন্ন জেলা থেকে পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া সমর্থকরা এই মিছিলে অংশ নেন। এই মিছিলটি শিয়ালদহ স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে ধর্মতলায় গান্ধি মূর্তির পাদদেশে অবস্থান করে। কয়েকহাজার মানুষ এই পদযাত্রায় সামিল হন।
শুধু শহর কলকাতা নয়, রাজ্যের বিভিন্ন শহরেও বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রতিবাদে মিটিং, মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বাবরি মসজিদ ধ্বংসকারী বজরং দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ-এর তীব্র নিন্দায় ফেটে পড়েন মিছিলে অংশগ্রহণকারী মানুষজন।
সেই সঙ্গে তারা লিবারহান কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে দোষীদের অবিলম্বে উপযুক্ত শাস্তির দাবি তোলেন।
বিশেষ করে যে সব উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেতা বাবরি মসজিদ ধ্বংসে সামিল বা মদত দিয়েছেন বলে অভিযুক্ত হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ গর্জে ওঠার দাবি ওঠে।
এল. কে আদবানি সহ সুষমা স্বরাজ ও অন্যান্য ব্যক্তিদের মদতকারী কংগ্রেস নেতা পি ভি নরসীমার রাওয়েরও শাস্তির জোরদার দাবি ওঠে। |